সাভার আরাপাড়া জমিদার বাড়ী

সাভার আরাপাড়া জমিদার বাড়ী

সাভার আরাপাড়া জমিদার বাড়ী

সাভার বাসস্ট্যান্ড তো সবাই চিনি। সাভার বাস ষ্ট্যান্ড ফুট ওভার ব্রীজ এর পশ্চিম পাশ থেকে ৎকিছু অটো যায় আড়াপাড়ার পাশ দিয়ে পোড়াবাড়ি। ওই অটোতে উঠে দশ টাকায় আড়াপাড়া নেমে একটু হাঁটলেই এই জমিদার বাড়ি। রিকশাতে হয়ত ২৫/৩০ টাকা নিবে। প্রথমেই চোখে পড়বে হাজামজা একটা সবুজ পানির পুকুর। পুকুর পাড়েই মন্দির ভেবে এই পার থেকে ছবিটবি তুলে কাছে গিয়ে দেখি এটা মন্দিরের প্রবেশ পথ। ভেতরে মূল মন্দির। অন্যান্য জায়গায় দেখা মন্দিরের চেয়ে এই রাঁধা মন্দির বেশ বড়। মন্দিরের পাশেই একটা কাঠের স্থাপনা। ফাল্গুনে পূর্ণিমা তিথিতে রাঁধা-কৃষ্ণকে এই দোলনায় দোল খাওয়ানো হয়। মূলত এই দোলনার দোল থেকেই দোল পূজা। আর সেই আনন্দক্ষণকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আনন্দের সাথে একে অন্যকে রাঙিয়ে দেন রঙ আর আবিরের দিয়ে। মন্দির থেকে বের হয়ে ডানে কালি মন্দির আর আরও ডানে আড়াপাড়া জমিদার বাড়ির সিংহদরজা। ডানের মূল পিলারে নীচের চোয়াল ভাঙ্গা একটা প্রবল সিংহ তার অস্তিত্বের জানান দিলেও বাম পাশের সিংহ উধাও। সিংহদরজা থেকে গলি রাস্তার মতো শেষ হয়েছে মূল প্রবেশ গেট পর্যন্ত। দুই পাশে নারী মূর্তি। কোনটার হাত নেই একটা, কোনটার পা নেই। কোনটার দুই হাতই খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার একটার চোখ আছে তো নাক নেই, তো নেই কান-মুখ। যেন প্রবল আক্রোশে খুবলে নিয়েছে কেউ, সব। মূল প্রবেশ গেটের দুপাশে বারান্দাযুক্ত রুমের বাড়তি অংশ। অফিস ঘর বা এখনকার রিসেপশন রুমের মতো। বারান্দায় চমৎকার লোহা গ্রীলের কারুকাজ, চিকন পিলারও লোহার। মাথায় আসলোনা এগুলো কি করে এখন পর্যন্ত কি করে চুরি হলো না। প্রবেশ অংশ পার হয়ে মূল বাড়ির মাঝে খালি অংশ, উঠান। তারপর মূল ভবন। পাশে অপেক্ষাকৃত নতুন আরও একটা বর্ধিত ভবন। সিমেন্টে খোদাইকরা নেমপ্লেট অনুসারে সিংহ দরজার সোজাসুজি “রাই শশী নিবাস” এর নির্মানকাল বাংলা ১৩০৭ অনযায়ী ইংরেজী ১৯০০ অর্থ্যাৎ প্রায় ১১৫ বছরের পুরনো। এর সিঁড়ির দুপাশেও দুটো ভাস্কর্য। পাশের ভবনের দেয়ালে রাই নিকেতন লেখা এই যুগের নেমপ্লেট, সাল ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ। মানে প্রায় ৭৮ বছর আগের। আর বিল্ডিং এ একেবারে উপরে ইংরেজীতে শুধু লেখা আরএম হাউস।